তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল: জামানত ছাড়াই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ

প্রকাশিত: 12 August 2026, 2:49:22 PM

দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচি থেকে যোগ্য তরুণরা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। এই ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা প্রচলিত ব্যাংক ঋণের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের এক বৈঠকে এই বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, মূলধনের অভাবে যারা ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না, তাদের জন্য এই উদ্যোগটি একটি বড় সুযোগ হতে যাচ্ছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের সুদহার ১১ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া তরুণদের জন্য বড় ধরনের সহায়ক হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ঋণের পাশাপাশি অনুদানের ব্যবস্থা। মাসরুর আরেফিন জানান, কোনো উদ্যোক্তা যদি নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন এবং তার ব্যবসার কার্যক্রম সন্তোষজনক হয়, তবে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে তাকে অনুদান দেওয়া হবে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন উদ্যোক্তা ঋণ নেওয়ার পর আরও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার প্রয়োজন হবে না। ফলে নিজস্ব সম্পদ না থাকলেও যাদের ব্যবসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দক্ষতা ও উদ্যোগ গ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে, তারা এই ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে ঋণ পাওয়ার পথ বন্ধ করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।

উদ্যোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি উপজেলা পর্যায়ে পরিচালিত হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা হবে। এবিবির চেয়ারম্যান জানান, ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে, যেখানে ব্যবসার সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তার বাস্তব দক্ষতাকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রস্তাবিত এই তহবিল থেকে নির্দিষ্ট কোনো খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদন ও বাণিজ্য উভয় ধরনের উদ্যোগকেই উৎসাহিত করা হবে। বিশেষ করে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প এবং শতরঞ্জি তৈরির মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও এবিবির এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি উপজেলা পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার ১১ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং বিভিন্ন এনজিওর ঋণের খরচও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন উদ্যোগে কম সুদের এ অর্থায়ন তরুণদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলে সাধারণ ব্যাংকঋণের তুলনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামানতের বাধা না থাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উৎপাদন ও বাণিজ্য দুই ধরনের উদ্যোগই এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে।

আরও খবর

আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.