
আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের আলোচিত কিশোরী তমা খাতুন (১৬) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক ইউপি সদস্য মো. আদম আলী জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে আসামির ভয়ভীতি, চাপ ও হুমকির মুখে নিহতের পরিবার নিজ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় আদালতে চার্জশীট দাখিল হওয়ার পরও প্রধান আসামির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে ষাটগাছা গ্রামের একটি নির্জন বাঁশঝাড় থেকে তমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে আটঘরিয়া থানা পুলিশ। নিহত তমা স্থানীয় বাসিন্দা নায়েব আলীর কন্যা। ঘটনার চারদিন পর, ২৮ ডিসেম্বর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মো. আদম আলীকে গ্রেপ্তার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আদম আলী তমাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। চার্জশীটে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
তবে চার্জশীট দাখিলের পর মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, আসামি এলাকায় ফিরে এসে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং মামলার সাক্ষী ও স্বজনদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন।
নিহতের বাবা নায়েব আলীর অভিযোগ, মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়াই আজ তার জন্য সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসামিপক্ষের হুমকি, ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর এবং চার্জশীট দাখিল হওয়ার পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এতে সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও মামলার সুষ্ঠু বিচার নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নিহত তমা খাতুনের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মামলার অগ্রগতি ও আসামির অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ভুক্তভোগী পরিবার যদি নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়, তবে তা বিচারপ্রার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। তাই মামলাটির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।







আপনার কমেন্ট লিখুন