
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। শনিবার বিকেলে তিনি পাবনা রেলস্টেশন পরিদর্শন করে সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস রেলস্টেশনের মাঠ, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, প্ল্যাটফর্ম এলাকা এবং সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ট্রেন চালুর পূর্বে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর ধরে পাবনাবাসীর অন্যতম দাবি ছিল ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু করা। বর্তমানে পাবনা থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের ঈশ্বরদী বা অন্য স্টেশন ব্যবহার করতে হয়। সরাসরি ট্রেন চালু হলে জেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং সময় ও ব্যয় দুটোই সাশ্রয় হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে স্টেশন এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যাত্রীসেবা ব্যবস্থা এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ সময় পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশরাফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, আনিসুল হক বাবু, পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, সড়কপথে দীর্ঘ সময়ের যাত্রা এবং যানজটের কারণে যাত্রীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হলে সেই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও সুবিধা পাবেন।
এদিকে সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে। ট্রেন চলাচল শুরুর নির্ধারিত তারিখ এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং এটি পাবনার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।






আপনার কমেন্ট লিখুন