ফারহান তৌসিফ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজের পছন্দমতো কোনো চাকরি খুঁজে পাননি। তার মতো এমন অসংখ্য উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী মাসের পর মাস চাকরির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত ছোটখাটো বা অসংগতিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে গত দুই বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে তেমন কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্য ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় বেকার থাকছেন। বিবিএসের তথ্যমতে, দেশে মোট ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকার রয়েছেন, যার মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজারই তরুণ-তরুণী (১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী)। অর্থাৎ, মোট বেকারের ৭৬ শতাংশের বেশি তরুণ।
জরিপের তথ্য বলছে, এই বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন এক বছরের বেশি সময় ধরে বেকার থাকছেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি স্নাতক ডিগ্রিধারী তরুণ ১ থেকে ২ বছর এবং ১৭ শতাংশের বেশি তরুণ ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজছেন।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বেকারদের মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি যুবককে ১ থেকে ৩ মাস এবং ৮ শতাংশকে ২ বছরের বেশি সময় কাজ খুঁজতে হয়। তবে শিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ার প্রধান কারণ হলো, তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী মানসম্মত কাজের অপেক্ষায় থাকেন। অন্যদিকে, কম শিক্ষিতরা যেকোনো ধরনের কাজে দ্রুত যোগ দিয়ে ফেলেন।
চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দেশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৫০ লাখ চাকরিপ্রত্যাশীর প্রোফাইল রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ সেখানে চাকরি খোঁজেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর জানান, নতুন স্নাতকধারীদের জন্য চাকরির বাজারে সুযোগ খুবই সীমিত। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত অভিজ্ঞ জনবল খুঁজছে, যা নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, স্নাতকধারীদের ৪০ শতাংশের বেশি পাস করার পর এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকছেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২ কোটি ৪৮ লাখ তরুণের মধ্যে ২ কোটি ২৮ লাখ কাজ পেয়েছেন। বাকি ২০ লাখ ৩২ হাজার তরুণ বেকার। শ্রমবাজারের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যে ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ঘাটতিও স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয় না। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে জীবনধারণ অসম্ভব। এছাড়া দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ছদ্মবেকার হিসেবে রয়েছেন, যারা মনমতো কাজ পাচ্ছেন না।
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সূত্রপাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে।
যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর।
বিবিএসের তথ্য–উপাত্ত বলছে, ২৭ শতাংশের বেশি বেকার যুবকদের এক থেকে তিন মাস বেকার থাকতে হয়।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘের আওতায় বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালন করা হয়।
কারণ, তুলনামূলক কম শিক্ষিত প্রার্থীরা মনমতো কাজ পেলেও যেনতেন কাজে ঢুকে যান।
বিডিজবস ডটকম সূত্রে জানা গেছে, বিডিজবস ডটকমে ৫০ লাখ চাকরিপ্রত্যাশীর প্রোফাইল আছে।
এই সময়ের ব্যবধানে চাকরিপ্রত্যাশী বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি।
সংশ্লিষ্টদের কথা বলে জানা গেছে, যে ধরনের চাকরি বা শোভন কাজ সৃস্টি হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেই ধরনের দক্ষ জনবল সৃস্টি হচ্ছে না।
আবার নতুন কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগও হচ্ছে না।






আপনার কমেন্ট লিখুন