হালাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

প্রকাশিত: 12 August 2026, 4:24:23 PM

বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি মনে করেন, হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল অর্থনীতি এখন আর কেবল খাদ্য ও পানীয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের মতো বহুমুখী খাতের সমন্বয়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এই বিশাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সেমিনারে আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেমের অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মালয়েশিয়া হালালকে কেবল একটি পণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদন, গবেষণা, সার্টিফিকেশন ও বিপণনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কাঠামোয় রূপ দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বাড়াতে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম শর্ত। এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনে কাজ করছে। সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি, বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার স্থাপন, এসএমই ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা।

আরও খবর

আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.