
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : সারাদেশে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে যখন সাশ্রয়ের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে দেখা গেছে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চিত্র। অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একজনকেও পাওয়া যায়নি, অথচ পুরো দিন ফাঁকা কক্ষের ভেতরে অবিরাম চলেছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। সরকারি বিদ্যুৎ ও রাজস্বের এমন অপচয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতারা।
সোমবার সকালে স্থানীয় উন্নয়ন কাজের নানা অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পিআইও কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পিআইও মানিকুজ্জামানের কক্ষটি খোলা এবং ভেতরে এসি চলছে। তবে পিআইওসহ ওই কার্যালয়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকরা জানান, বক্তব্য নেওয়ার জন্য পিআইও মানিকুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। দিনভর অফিসেও তার উপস্থিতি ছিল না। এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি, ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদপুর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে হরহামেশাই অনিয়ম হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলাকায় অবৈধ চায়না জালের কারখানা, কোটি টাকার ব্রিজের কাজ অসমাপ্ত রাখা ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী তৈরির কারখানা গড়ে উঠলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, ভেজাল খাদ্য ও প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে পুরো অফিস ফাঁকা পান তারা। ফাঁকা ঘরে এসি বন্ধ করার মতোও কেউ ছিল না। এছাড়া সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে অফিসে কর্মকর্তা না পাওয়া এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলার বৃলাহিরিবাড়ী গ্রামের তমিজ উদ্দিন বার্তা সংস্থা পিপ’কে বলেন, আমার গ্রামের একটা রাস্তা উন্নয়নের ব্যাপারে পিআইও অফিসে গিয়ে দেখি কেউ নাই। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখি এসি চলছে ও লাইট জ্বলছে। এক ঘন্টা বসে থাকার পর চলে এসেছি।
কালের কন্ঠ অনলাইনের সাংবাদিক রাজিব জোয়ারদার বার্তা সংস্থা পিপ’কে বলেন, পেশাগত কাজে আমরা ওখানে গিয়ে দেখি এসি চলছে লাইট জ্বলছে। কিন্তু অফিসে কোনো লোক নাই।
আনন্দ টিভি সাংবাদিক সেলিম মোর্শেদ রানা বার্তা সংস্থা পিপ’কে বলেন, আমরা পাঁচ জনের একটি সাংবাদিক পাবদা থেকে ফরিদপুর গিয়ে প্রকল্প বাস্তব কর্মকর্তার রুমে এসি চলছে লাইট জ্বলছে অথচ লোক নেই।
অনুপস্থিতি ও বিদ্যুৎ অপচয়ের অভিযোগ বিষয়ে জানতে পিআইও মানিকুজ্জামান ও ইউএনও উম্মে ইমামা বানিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি জানার পর পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কেউ না থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি লাইট জ্বলতে পারে, কিন্তু এসি চলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার কমেন্ট লিখুন