কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। আহত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার প্রাণীদের উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলার এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। উদ্ধারকারীদের মতে, কেবল বিড়াল উদ্ধার করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং বিড়ালের বংশবৃদ্ধি রোধ এবং রাস্তায় তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এই সংকট মোকাবিলায় কাতারজুড়ে একটি নতুন সচেতনতা গড়ে উঠছে, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ বা টিএনআর (Trap-Neuter-Return) কর্মসূচি এবং দোকান থেকে না কিনে উদ্ধারকৃত বিড়াল দত্তক নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাত বছর ধরে প্রাণী উদ্ধারে যুক্ত দোহার বাসিন্দা ইরিনা তিমোশেঙ্কো বর্তমানে নিজের বাসায় প্রায় ৭২টি বিড়ালের দেখাশোনা করছেন। অসুস্থ বিড়ালদের সুস্থ করে তোলা, টিকা দেওয়া এবং দত্তক দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর মূল কাজ।
তবে এই সেবামূলক কাজ করতে গিয়ে তিনি বিপুল আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন। ইরিনা জানান, বিড়ালের খাবারের পেছনে মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সবচেয়ে কঠিন। গত দুই মাসে গুরুতর আহত ও সংক্রমিত ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল খরচ করতে হয়েছে। তবুও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
একইভাবে সাবিনা হুসেইনোভা নামের আরেক বাসিন্দা বিপথগামী প্রাণী ও বিড়ালের খাবার ও বন্ধ্যাকরণের জন্য মাসে ১,০০০ রিয়াল ব্যয় করেন। তিনি মনে করেন, প্রাণীদের স্থানান্তর না করে নিজ এলাকায় রেখে বন্ধ্যাকরণ করাই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এই সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছে। ‘টিএনআর কাতার’-এর কর্মকর্তা শার্লট জানান, আশ্রয় বা দত্তক দিয়ে হাজার হাজার বিড়ালের সমস্যার সমাধান হবে না, এর জন্য টিএনআর কর্মসূচিই একমাত্র পথ। তারা বিড়াল ও কুকুরের বাধ্যতামূলক সরকারি নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ বলছে, স্থানান্তরের সময় পোষা প্রাণী ফেলে না যাওয়া এবং দোকান থেকে না কিনে উদ্ধারকৃত বিড়াল দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
‘স্ট্রিটস অব স্ট্রে’ সংস্থাটি বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে, এলাকা পরিষ্কার রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও গ্রীষ্মে পানির ব্যবস্থা করা এবং পশুচিকিৎসায় সহায়তা করার মাধ্যমে যে কেউ এই মানবিক কাজে অংশ নিতে পারেন।
উদ্ধারকারীরা কাতার সরকারের নজরদারি এবং অধিবাসীদের প্রতি তিনটি বিশেষ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন: প্রথমত, টিএনআর কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে বিড়ালদের বন্ধ্যাকরণ করা; দ্বিতীয়ত, পোষা প্রাণীর দোকান ও ব্রিডারদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং মালিকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন; এবং তৃতীয়ত, দেশ ত্যাগ বা বাসা বদলের সময় পোষা প্রাণী রাস্তায় ফেলে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে কাতারে গৃহহীন প্রাণীদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে।
কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রতিটি উদ্ধার অভিযান যেন দীর্ঘ সংগ্রামের এক একটি কষ্টকর অধ্যায়।
বিপুল আর্থিক ও মানসিক চাপ: তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কা আসে চিকিৎসা খরচে।
গত দুই মাসেই গুরুতর আহত ও সংক্রমণে ভোগা ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল।
এই লক্ষ্যে কাতার জুড়ে গড়ে উঠেছে একটি নতুন আন্দোলন, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ (Sterilization/Neutering) এবং কেনাকাটার পরিবর্তে দত্তক গ্রহণকে (Adoption) মূল সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাহায্যের তাগিদ: আর্থিক ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ (The Pearl Animal Welfare): সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানান্তরের সময় পোষা প্রাণীদের পরিত্যক্ত না করা এবং দোকান থেকে কেনার বদলে উদ্ধারকৃত বিড়ালদের দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীল পোষ্য পালনের প্রধান শর্ত।



আপনার কমেন্ট লিখুন