দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনেই নিজেদের আধিপত্যের জানান দিল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নের মতো। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে সফরকারীরা। দিনের শেষভাগে ব্যাট হাতেও দারুণ জবাব দিয়েছেন মুমিনুল হক ও তানজিদ তামিমরা। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছে, যা স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ১০২ রান পিছিয়ে।
ম্যাচের মূল নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো পেসারের তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন, যারা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, অস্ট্রেলিয়ার দশটি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেও এমন কীর্তি গড়েছিল বাংলাদেশ, যেখানেও নায়ক ছিলেন হাসান মাহমুদ।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। ১২তম ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে (২৩) বোল্ড করে প্রথম সাফল্যের দেখা পান হাসান। এরপর ট্রাভিস হেডকেও (২২) সাজঘরে ফেরান তিনি। যদিও স্টিভেন স্মিথ মাত্র ২ রানে থাকার সময় ইবাদতের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু তানজিদ হাসান তা তালুবন্দি করতে পারেননি। জীবন পেয়ে স্মিথ পরে অর্ধশতক তুলে নেন। তবে স্বাগতিকদের বড় কোনো বিপদ থেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।
লাঞ্চের আগেই ২২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মারনাস লাবুশেন (১) ইবাদতের বলে এবং ক্যামেরন গ্রিন (১৩) তাসকিনের শিকার হন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি ৫৫ রানের একটি জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে ৩৭তম ওভারে ক্যারিকে (৩৭) বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত। এরপর বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক দ্রুত ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ৭১ রান করা স্মিথকে আউট করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ, আর তাতেই ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস।
ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ দারুণ শুরু পায়। ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। তবে স্টার্কের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২০ রানে ফেরেন সাদমান। এরপর মুমিনুল হক ক্রিজে নেমে তানজিদের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। স্টাম্পের সময় মুমিনুল ৩৫ ও তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। সব মিলিয়ে বল ও ব্যাট—উভয় বিভাগেই দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ভালোভাবেই চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাটিং নেয়া অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে শুরুটা হয় দুর্দান্ত।
৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা স্পেল।
মাঝে ইবাদতের বলে মাত্র ২ রানে থাকা স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ ফেলেন তানজিদ হাসান।
তেইশ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর দিনটা যেন আগে থেকেই লিখে রাখা ছিল বাংলাদেশের জন্য।
দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের সব ব্যাটারকে আউট করার কৃতিত্ব দেখালো বাংলাদেশের পেসাররা।
তাসকিন ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে আক্রমণ শানান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে অস্ট্রেলিয়ার।






আপনার কমেন্ট লিখুন