কাতারের বিখ্যাত পর্বতারোহী শেইখা আসমা বিনতে থানি আল-থানি পর্বত আরোহণের জগতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্বতের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১১টি সফলভাবে জয় করে তিনি নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘টিম কাতার’ আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শেইখা আসমার সর্বশেষ সফল অভিযানটি ছিল পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে অবস্থিত কারাকোরাম পর্বতমালায়। সেখানে তিনি অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ ‘গাশেরব্রাম-২’ (Gasherbrum II) জয় করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি এই চূড়ায় আরোহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি তার চূড়ান্ত লক্ষ্য, অর্থাৎ বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন।
পর্বতারোহীদের কাছে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এই পর্বতগুলো ‘ডেথ জোন’ বা মৃত্যুকূপ হিসেবে পরিচিত। এই উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে, যা মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া হাড়কাঁপানো মাইনাস তাপমাত্রা এবং ভয়াবহ তুষারঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এমন প্রতিকূল পরিবেশে একের পর এক শৃঙ্গ জয় করা শেইখা আসমার অদম্য সাহস ও মানসিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
শেইখা আসমা বিনতে থানি আল-থানির এই ধারাবাহিক সাফল্য কেবল কাতারের ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, বরং সমগ্র আরব বিশ্বের নারীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তার এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে কাতারের নামকে আরও উঁচুতে তুলে ধরছে এবং নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
গতকাল (৯ আগস্ট ২০২৬) ‘টিম কাতার’ (Team Qatar) আনুষ্ঠানিকভাবে শেখা আসমার এই অনন্য ও ঐতিহাসিক অর্জনের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
৮,০০০ মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতার এই পর্বতগুলোকে এভিয়েশনের ভাষায় এবং পর্বতারোহীদের কাছে “ডেথ জোন” (Death Zone) বলা হয়।
প্রতিকূল পরিবেশ: চরম তুষারঝড়, ভয়াবহ মাইনাস তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে পর্বতারোহীদের পথ চলতে হয়।





আপনার কমেন্ট লিখুন