বেড়ায় নিঃসন্তান চাচার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ, ভাতিজি সোহাগীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পাবনার বেড়ায় নিঃসন্তান চাচার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজি আনজেলা খাতুন সোহাগী ও তার স্বামী শাহজাহান ব্যাপারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বেড়া পৌরসভার হাতিগাড়া মহল্লায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকবর আলী প্রামাণিকের চার ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে তজি পাগলা নামে পরিচিত এক ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এই সুযোগে আকবর আলী প্রামাণিকের ছেলে তালেব আলীর মেয়ে আনজেলা খাতুন সোহাগী ও তার স্বামী শাহজাহান ব্যাপারী দুই দফায় ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে তজি পাগলার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার দাবি করে ভোগদখল করছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর তারা জানতে পারেন তজি পাগলা সোহাগীর বাড়িতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানানো হয়নি এবং কোথায়, কীভাবে তাকে দাফন করা হয়েছে, এ বিষয়েও স্বজনদের মধ্যে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ডাক্তার কেরামত আলী বলেন, তজি চাচা মারা যাওয়ার আগে সোহাগী তাকে নাকালিয়ায় তার বাড়িতে নিয়ে রাখেন। প্রায় দুই মাস পর আমরা জানতে পারি, তজি চাচা মারা গেছেন। তিনি আমাদের আপন চাচা হওয়া সত্ত্বেও তার মৃত্যুর খবর আমাদের জানানো হয়নি। কোথায় এবং কীভাবে তাকে দাফন করা হয়েছে, সেটিও আমাদের বংশের কেউ জানে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্পত্তির লোভে তজি চাচার মৃত্যুর ঘটনায় সোহাগী ও তার স্বামীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমরা মনে করি, তজি চাচা কাউকে জমি লিখে দেননি। সোহাগী মিথ্যা ও জাল দলিল তৈরি করে সম্পত্তি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা ঘটনার পুনঃতদন্ত করে সঠিক বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে আব্দুল আলীম বলেন, আমার দাদা তজি পাগলা নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি নাকালিয়ায় সোহাগীর বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পর আমরা জানতে পারি, তিনি সোহাগীর বাড়িতে মারা গেছেন এবং জমি লিখে দিয়ে গেছেন বলে সোহাগী দাবি করছেন। কিন্তু এ দাবি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাতিগাড়ায় তজি চাচার আত্মীয়-স্বজনদের কেউ তার মৃত্যুর খবর সময়মতো জানতে পারেননি। এতদিন পর মৃত্যুর খবর জানানো এবং এরপর জমি লিখে দেওয়ার দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তজি পাগলার মৃত্যুর ঘটনা, তার দাফন এবং কথিত দলিলের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
