• Sat. Apr 18th, 2026

দৈনিক পাবনার আলো, মাহফুজ আলী কাদেরী কর্তৃক সম্পাদিত

#pabnaralo#, pabna# pabnanews# পাবনারআলো# পাবনার_আলো#পাবনারখবর#পাবনারবার্তা

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবিক্রি-ভাড়া ঈশরদীতে


ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীতে গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক বাড়ি বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী এসব ঘর হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্টরা।
২০৬টি নতুন বাড়ির মধ্যে অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন না। তারা অন্যত্র বসবাস করেন। বরাদ্দ পাওয়া একই ঘর একাধিকবার বিক্রি এবং ভাড়া দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি ঘর ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হলেও (অভিযোগ অনুযায়ী) প্রকল্পের ভেতরে থাকা স্থানীয় নেতাদের বিক্রির অর্ধেক টাকা দিতে হয়।
উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে এমন অনিয়ম ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, শতাধিক বাড়ি স্ট্যাম্পে লিখিত কাগজপত্রের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। কোনো কোনো ঘর দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত বিক্রির ঘটনাও পাওয়া গেছে।
প্রকল্পের বাসিন্দা পলি খাতুন জানান, তিনি বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে তিনটি ঘর ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে, সুমন আহমেদ, আমেনা বেগম, সাথী খাতুন, জালাল উদ্দিনসহ শতাধিক বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের ঘর বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব লেনদেনে শফিকুল রাজীব নামের এক নেতাসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। চায়না খাতুন ও কামাল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তারা স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমেই ঘর কিনে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন। যদিও এ ধরনের লেনদেনের কোনো বৈধতা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, তাঁর চাচার বরাদ্দ পাওয়া ঘরে এখন তিনি বসবাস করছেন। এক দোকানি জানান, তিনি সম্প্রতি একটি ঘর কিনেছেন। ঝর্ণা খাতুন নামে এক বাসিন্দা বলেন, তিনি তাঁর বরাদ্দকৃত ঘর ভাড়া দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন, এমনকি, তাঁর ভাড়াটিয়াও আবার অন্যের কাছে ঘরটি ভাড়া দিয়েছেন।
এ ছাড়া অনেকেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাড়া দিয়ে শহর বা গ্রামের সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে নিজেরা ভাড়া বাসায় থাকছেন। বর্তমানে যারা সেখানে বসবাস করছেন, তারা নিম্নমানের নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, মাদকাসক্তদের উৎপাত ও চুরির কারণে বসবাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এসব অবকাঠামো নিশ্চিত করার কথা ছিল।

স্থানীয়রা আরও জানান, অতীতে কৌশলে এক পরিবারের তিন-চারজন সদস্য পৃথকভাবে ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। এসব ঘরের অনেকগুলো এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে। রোকেয়া বেগম নামে এক ভাড়াটিয়া বলেন, তিনি যে ঘরে থাকছেন, সেটির মালিক অজেদ কুমার কোর, যিনি অন্যত্র বসবাস করেন। অরিফা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর ঘরের দেয়ালে ফাটল ও চালা দিয়ে পানি পড়ায় তিনি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সমসের আলী জানান, কর্মস্থল দূরে হওয়ায় তিনি তাঁর ঘরে আত্মীয়কে থাকতে দিয়েছেন।
স্থানীয় নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত মালিকরা ঘর ভাড়া দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। পাপিয়া বেগম জানান, শুরুতে সবাই বসবাস করলেও এখন অধিকাংশ ঘর তালাবদ্ধ। আনোয়ারা খাতুন বলেন, বাড়ি থাকলেও উঠান নেই এবং গবাদি পশু পালনের সুযোগ নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধী আলমগীর হোসেন নতুন ঘর পেয়েও কাজের অভাবে তা ছেড়ে রেললাইনের পাশের বস্তিতে ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন সরকার বলেন, প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তদন্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি। যারা ঘর বিক্রি করেছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *