
পাবনা প্রতিনিধি:
একসময় হেমায়েতপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল পদ্মাকোল নদী। ইছামতি নদীর এই শাখা নদীটি ছিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। কিন্তু এখন সেই নদীই প্রভাবশালীদের দখল, ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনায় ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বে নদীর বুক ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে দালানকোঠা, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কোথাও আবার কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীতে আগের মতো পানি দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় পদ্মাকোল নদীতে সারা বছরই পানি থাকত এবং এটি এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু এখন নদীর বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের কারণে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের ফসলি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর জায়গা দখল করে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে মার্কেট, আবার কোথাও স্থায়ী স্থাপনা। স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, এসব স্থাপনা যেসব জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে তার একটি অংশ বাংলাদেশ সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, যা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর মৌজার আরএস ৪২০৩ দাগ নম্বরভুক্ত জমির মোট পরিমাণ ০.৬১ শতাংশ, যার মধ্যে ০.৩৫ শতাংশ খাস জমি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আরএস ৪২১৩ দাগ নম্বরভুক্ত ০.৭৭ শতাংশ জমির ওপরও অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, “সরকারি সম্পত্তি কেউ অবৈধভাবে দখল করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও পাবনা জেলা প্রশাসক ডা. শাহেদ মোস্তফা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পদ্মাকোল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে না আনলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী এই নদীটি।
