দেশে বছরে অপচয় ১ কোটি ৬ লাখ টন খাদ্য

প্রকাশিত: 9 June 2022, 10:01:50 AM

ডেস্ক নিউজ ॥ সারা বিশ্বে প্রতি বছর যত খাবার উৎপাদন হয় তার একটি বড় অংশ মাঠ থেকে আর খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছায় না। সেটি অপচয় হয়ে যায়। আর খাদ্য অপচয়ের ক্ষেত্রে উন্নত, উন্নয়নশীল আর অনুন্নত কেউই বাদ যায় না। ২০২১ সালে ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপ। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে এক কোটি ৬ লাখ টন খাদ্য অপচয় করা হয়। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি বছরে ৬৫ কেজি খাদ্য উপাদান কিংবা তৈরি খাদ্য নষ্ট করেন। ইউনেপ-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয় হয় চীনে। সেখানে বছরে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ ৯ কোটি ১৬ লাখ টন। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ খাদ্য অপচয় হয় বাংলাদেশে। উৎপাদনের শুরু থেকে অর্থাৎ সেটি মাঠে শস্য উৎপাদন হোক কিংবা সবজি, ফল, মাংস, ডিম বা দুধ যাই হোক না কেন, সেটি মানুষের খাবারের পে´টে যদি না পৌঁছায়, অথবা পে´টে পৌঁছেও নষ্ট হয়; তবে সাধারণভাবে তাকে খাদ্য অপচয় বলা যায়। উৎপাদনের পর যদি সেটি খাওয়ার যোগ্য না হয়, মানে সেটি যদি পচে যায়, বা মানসম্পন্ন না হয়, সেটিও খাদ্য অপচয় বলে গণ্য হয়।
২০২১ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উচ্চ আয়ের পরিবারে বেশি খাদ্য অপচয় হয়। ওই গবেষণা দলের প্রধান ছিলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ আয়ের পরিবারে এক মাসে মাথাপিছু ২৬ কেজি খাদ্য অপচয় হয়। (২য় পাতায় দেখুন)
(শেষ পাতার পর)তুলনামূলক মধ্য এবং নিম্ন আয়ের পরিবারে অপচয় কম হয়। অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে কয়েকটি ধাপে খাদ্য অপচয় হয়। তবে ফসলের ক্ষেত থেকে খাদ্যসামগ্রী বাজারে এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়।
এফএও’র গবেষণায় দেখা গেছে, শস্যদানা মানে চাল, গম ও ডাল এসব উৎপাদন থেকে মানুষের পে´ট পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১৮ শতাংশ অপচয় হয়। ফল আর সবজির ক্ষেত্রে অপচয় হয় ১৭ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত। অপচয়ের কারণ হিসেবে অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, দেশে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কম, ফলে মাঠ থেকে ফসল তোলা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মজুদ, তারপর সেগুলো বাজারে পরিবহন-এর প্রতিটি পর্যায়েই অপচয় হয়। অপচয় ঠেকানোর উপায় প্রসঙ্গে অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কৃষি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। আগেভাগে পরিকল্পনা করে কেনাকাটা, রান্না, এবং পরিবেশনের কাজ করলে অপচয় কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

আরও খবর

হালাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হালাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রতি তিনজন স্নাতকধারীর একজন বেকার থাকছেন এক বছরের বেশি সময় প্রতি তিনজন স্নাতকধারীর একজন বেকার থাকছেন এক বছরের বেশি সময় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল: জামানত ছাড়াই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল: জামানত ছাড়াই মিলবে ১০ লাখ টাকা ঋণ জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতার মাশুল: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগ জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতার মাশুল: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগ কাতার ও ওমানের অর্ধশতকের কূটনৈতিক সম্পর্ক: সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত কাতার ও ওমানের অর্ধশতকের কূটনৈতিক সম্পর্ক: সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত গরীবের হাসপাতালে চিকিৎসা নিলাম কেন? গরীবের হাসপাতালে চিকিৎসা নিলাম কেন? এক দশক পর চাটমোহর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা এক দশক পর চাটমোহর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা পাবনায় কফিল উদ্দিন কনফেকশনারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা পাবনায় কফিল উদ্দিন কনফেকশনারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায়,দাম কমেছে দেশের বাজার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায়,দাম কমেছে দেশের বাজার

আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.