
সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১২জন আহত হয়েছে । এসময় অগ্নিসংযোগে দুটি হোন্ডা পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উক্ত গ্রামের একটি মসজিদের কমিটি গঠনের বিষয়কে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তোজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুম্মার নামাজের আগে সোনাতলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মসজিদের মুসল্লিরা দীর্ঘদিন ধরেই নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে আসছিলো। মুসল্লিদের সাথে আলাপ আলোচনা ভিত্তিতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মসজিদে ইমামের বয়ান শেষ হওয়ায় পর পুরাতন কমিটি ভেঙে দিয়ে নাজিম উদ্দিন সাগরকে সভাপতি এবং ডাঃ শফিকুল ইসলাম পাপ্পুকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা দিলে পুরাতন কমিটির সভাপতি আনিসের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ বিরোধিতা করে। লোকজন আরিফুল ইসলাম আরিফকে নতুন কমিটি গঠনে বিরোধিতার কারন জিজ্ঞাসা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে আরিফ ও তার লোকজন কমিটি গঠনের পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষ কালে বাইরে থাকা আরিফের কিছু লোকজন লোহার রড, কাঠের বাটাম, হকস্টিক, হাসুয়া ইত্যাদি নিয়ে ডাঃ শফিকুল ও তার লোকজনকে মারপিট করে। এদের মারপিটে ১২জন আহত হয়। আহতরা হলেন, সোনাতলা গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন এর ছেলে ডাঃ শফিকুল ইসলাম পাপ্পু (৪০), রাসেল (৩০), লাল মিয়া (৫০),আমিরুল ইসলাম (৫৫), মৃত আঃ মজিদ এর ছেলে আমিনুল (৪২), মানিক ফকিরের ছেলে তুষার (৩২), রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে রেজাউল (৫৮), মৃত শামছুলের ছেলে মনি (৪০), মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে রাশিদুল (৪৫), বুলবুল (৪০), রুবেল (৩৮) ও জিন্নাহ (৪৫)। আহতদের মধ্যে ডাঃ শফিকুল, রাসেল,লাল মিয়া ও আমিরুলকে সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, সোনাতলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, এটা দলীয় কোন ঘটনা না, স্থানীয় সমস্যা। উভয় পক্ষ চাইলে দ্রুত মিমাংসা করা সম্ভব।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। এখন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় গ্রুপই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
