মাগুরায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামির করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তবে শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে, গত বছরের ৩০ জুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. হিটু শেখের (৪৪) করা নিয়মিত ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। সেই সময় আদালত হিটু শেখের এক লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১ মার্চ ভুক্তভোগী শিশুটি মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী মঠপাড়া এলাকায় তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে ৬ মার্চ ভোরে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরদিন রাতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ মার্চ শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছিল।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। মামলার অপর তিন আসামি—হিটুর স্ত্রী জাহেদা বেগম (৩৮) এবং দুই ছেলে রাতুল শেখ (১৮) ও সজীব শেখের (২০) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস প্রদান করেন। হিটু শেখ সম্পর্কে ভুক্তভোগী শিশুটির বোনের শ্বশুর হন।



আপনার কমেন্ট লিখুন