চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। সোমবার দুপুরে অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭৬ জন বিজ্ঞান বিভাগের এবং ৬ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল, যাদের প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘদিনের। এর আগেও ২০২৫, ২০২২, ২০১৭ ও ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বোর্ড পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩২০ জনের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন এবং ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
সাফল্যের এই ধারা বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা। তিনি জানান, নরসিংদীর মতো একটি মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। তার প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে, যাতে সমাজে সার্টিফিকেটধারী বেকার তৈরি না হয়।
আবদুল কাদির মোল্লা সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে গভর্নিং বডি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই চারটি পক্ষকে কখনোই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া হয় না। প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেনও এই কৃতিত্বের পেছনে গভর্নিং বডি ও অভিভাবকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লার উদ্ভাবনী দিকনির্দেশনাই তাদের সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, টিউটোরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা এবং গাইড শিক্ষকদের হোম ভিজিটের মতো উদ্যোগগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষক। জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, দেশের অস্থির পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় তারা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকদের বিশেষ যত্ন এবং নিয়মিত তদারকি তাদের এই অসামান্য ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। আজকের এই সাফল্য তাদের সব কষ্ট ও হতাশা দূর করে দিয়েছে বলে তারা মন্তব্য করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে এবারও শীর্ষস্থান অর্জনের আশা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
২০২৫, ২০২২, ২০১৭ ও ২০১৫ সালেও এই প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল ১০০ শতাংশ।
২০২২ সালে ২৬৬ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পায়।
২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন এবং ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশের সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে আমরা জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ একটি স্থান অর্জন করার আশা করছি।’
আমাদের ভালো ফলাফলের প্রধান কারণ হলো আমরা কখনোই এই চারটি গ্রুপকে একে অপরের থেকে আলাদা হতে দিই না।’
তার উদ্ভাবনী ধারণা এবং সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা আমাদের এই সাফল্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, দেশের বিভিন্ন অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল, কিন্তু শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় তারা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছিল।




আপনার কমেন্ট লিখুন