
সেলিম মোর্শেদ রানাপাবনা প্রতিনিধি :- শিশুরা বড়দের পথ অনুসরণ করে , তার দিগন্ত উদাহরণ পাবনার সুজানগর উপজেলার ভাটিকয়া গ্রামের ইমান আলী খানের ছেলে সিএনজি চালক রাসেলর মেয়ে ঝিনুক। রাসেল পেশায় একজন সিএনজি চালক, শৈশবে তিনবেলা ভাত জুটতো না, ছোটবেলার ভাতের কষ্টের দিনের কথা তার মনে দাগাদেয়, শুরু হয় সংগ্রাম, করোনাকালে চারিদিকে যখন হাহাকার, কাজ বন্ধ, অনেকের ঘরে খাবার নাই তখন তার জুমানো টাকা দিয়ে চাল ডাল সবজি মুরগি এনে সল্প সংখ্যাক লোককে পেট ভরে খাওয়ান, সেদিনের বয়স্ক এক বৃদ্ধার আশীর্বাদে শুরু করেন মাসে দুই দিন শতাধিক হতদরিদ্র অসহায় মানুষের পেট ভরে খাওয়ানোর যুদ্ধ , বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় কিছু সমাজের সমাজের বিত্তবান সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন, এই সাহায্যের হাতকে শক্তিশালী করে দোস্তদের খাওয়ানের পাশাপাশি হতদরিদ্রদের মাঝে প্রায় ৩০ টি নলকূপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে, তা ছাড়াও দরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থসহ নানান সহযোগিতা করে আসছে। রাসেলের সাথে ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে সহযোগিতা করেন ,তার বাবার মানবিক কাজ দেখে ভাটিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঝিনুকের চিন্তা মাথায় আসে, বাবার মত অনুসরণ করে,
ছোটবেলা থেকেই সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অনুভব করে এলাকার তরুণদের আড্ডা মোবাইল ফোনে জুয়াসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে তরুণদের হাতে ৬টি ফুটবল তুলে দেয়। যে শিক্ষার্থী এতদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন সেই শিক্ষার্থী এখন ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, এলাকাবাসী বলেন রাসেল ও তার মেয়ের এই সাহসিকতা দেখে আমরা মুগ্ধ, আশা করি আমরা আগামী দিনে ওদের সাথে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
এদিকে রাসেল ও তার মেয়ে ঝিনুকের অদম্য মানবিক সাহসিকতার প্রশংসা করেন পাবনা জেলা প্রশাসক, তা ছারাও মানবিক কাজের জন্য সরকারি ভাবে সকল প্রকার সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
