বিবাহ বিচ্ছেদ থেকে দেনা-পাওনার বিরোধ, অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হচ্ছে রায়: অভিযোগ

মো: সিয়াম
পাবনার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় বিচার-সালিশের নামে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু নামধারী রাজনৈতিক নেতা, কথিত সমাজপতি ও মধ্যস্থতাকারীরা বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন। বিশেষ করে বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনা-পাওনা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক দ্বন্দ্বের ঘটনায় এসব চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ঘটনা ঘটলেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিচার-সালিশের নামে বসে একাধিক বৈঠক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অর্থ ও প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যে পক্ষ বেশি অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়, অনেক ক্ষেত্রে রায়ও তাদের পক্ষেই চলে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সালিশের নামে ডেকে এনে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়। কখনো বিচার পরিচালনার খরচ, কখনো সমাজের উন্নয়ন তহবিল, আবার কখনো জরিমানার নামে অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লিখিত হিসাব বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কিছু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে সালিশি বৈঠকে আধিপত্য বিস্তার করেন। তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। ফলে অনেকেই ন্যায়বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
সচেতন মহলের মতে, গ্রাম্য সালিশ ব্যবস্থা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সালিশের উদ্দেশ্য হলো বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান; কিন্তু যখন এটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়।
আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে অর্থ দিতে বাধ্য করলে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারেন।
এদিকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বিচার-সালিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গ্রাম্য সালিশের নামে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্য বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিচার-সালিশ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিচার-সালিশের নামে গড়ে ওঠা এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। অনুসন্ধান চলমান…..
