ঐতিহ্য ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন।
জমকালো এই অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এসময় উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়।
শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ সরকারপ্রধান পেল। একইসঙ্গে ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। তারেক রহমান একই পরিবার থেকে তৃতীয় সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা ফেরার পর থেকে হিসাব করলে তারেক রহমান চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। তবে ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের পর তাজউদ্দীন আহমদকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণনা করলে তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী। ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারে নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা মাত্র চারজন। এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারেক রহমান হলেন ১৯৯১-এর পঞ্চদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফেরার পর তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখেই।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করা হয়।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।
এ ছাড়া বাহাত্তরে সংবিধান প্রণয়নের আগে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
ববস্থাপনা সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা মাল্টিমিডিয়া সম্পাদক: মোহাম্মদ সাগর
ক্যাম্প অফিস: ১১/৫ কলাবাগান, ঢাকা, ১২০৫ ইমেইল: info@.com Phone: +88 01715 800 701










আপনার কমেন্ট লিখুন