বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ফটকের সামনে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক ফরিদ দগ্ধ হয়েছেন। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সের পাশে পার্ক করে রাখা আটটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া বাইকগুলোর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মীদের মোটরসাইকেলও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম জানান, রোগী নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল চত্বরে আসার পরপরই বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বেলা একটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়েই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যার ফলে মূল ভবনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন মো. মাহবুবুল আলম। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার নিশ্চিত করেছেন যে, আগুনের ধোঁয়া বহির্বিভাগে প্রবেশ করলেও রোগী বা হাসপাতালের অবকাঠামোর কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে হাসপাতালের কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এবং সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানান, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে হাসপাতালটি রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন মাহাবুবুল আলম এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের মেয়াদ এবং গাড়ির ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।







আপনার কমেন্ট লিখুন