ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন: স্বাধীন চিকিৎসা প্যানেল গঠনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

প্রকাশিত: 14 August 2026, 10:16:35 AM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সুস্থতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী বলে দাবি করলেও, তাঁর শারীরিক উপসর্গ ও প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের অসংগতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন খ্যাতনামা মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোনাথন রেইনার। তিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির ২৭ বছরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডা. রেইনার ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু অস্পষ্টতা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্টের হাতে ফুটে ওঠা কালশিটে দাগ। হোয়াইট হাউস একে ঘন ঘন হাত মেলানো ও অ্যাসপিরিন সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, ডা. রেইনারের মতে, উভয় হাতের সমান বিবর্ণতা কেবল এই সাধারণ কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়।

প্রেসিডেন্টের পা ফুলে যাওয়া প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক একে ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’ বা শিরাগত রক্ত সঞ্চালনের দুর্বলতা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ডা. রেইনারের প্রশ্ন, গত মে মাসের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই সমস্যার কোনো উল্লেখ ছিল না, তাহলে হঠাৎ কীভাবে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলো? এছাড়া বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা জেগে থাকতে কষ্ট হওয়ার বিষয়টিও কোনো গভীর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্পের হৃদ্‌যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষা করানো হয়। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা একে সাধারণ আগাম পরীক্ষা বলে দাবি করলেও, ঠিক কী কারণে এত বিস্তৃত ও জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছিল, তা জনসমক্ষে খোলাসা করা হয়নি।

ডা. রেইনার স্বীকার করেছেন যে রাষ্ট্রপতির সব গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করা নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভব নয়। তবে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিশ্চিত করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি ‘স্বাধীন চিকিৎসা প্যানেল’ গঠনের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মূল বিষয়টি কোনো ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না, সেটিই এখন আমেরিকার জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরও খবর

আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.