• Mon. Feb 9th, 2026

দৈনিক পাবনার আলো, মাহফুজ আলী কাদেরী কর্তৃক সম্পাদিত

#pabnaralo#, pabna# pabnanews# পাবনারআলো# পাবনার_আলো#পাবনারখবর#পাবনারবার্তা

পাবনায় ৯০ বছর বয়সী অন্ধ বৃদ্ধা মোমেনার বাঁচার লড়াই

মোঃ সিয়াম :

পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়নের ভবানী, পুরাতলা এলাকার এক অন্ধ বৃদ্ধা, মোমেনা খাতুন,প্রায় ৯০ বছর বয়সেও জীবনের নির্মম সংগ্রাম একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। চোখে দেখতে পান না, শরীর ভেঙে পড়েছে, চলাফেরায় পুরোপুরি অন্যের উপর নির্ভরশীল। তারপরও সকাল হলে ছেলের বউ সহযোগিতায় পাবনা শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে এসে বসে পড়েন ;আবার সন্ধ্যায় এসে নিয়ে যায় তার ছেলের বউ । সারাদিন অপেক্ষা,কেউ কিছু দিলে খাবেন, না দিলে না খেয়ে থাকবেন। প্রতিদিন তাঁর হাতে ওঠে মাত্র ৩০০–৪০০ টাকা, অনেক দিন তারও কম।

মোমেনা খাতুনের স্বামীর নাম আব্দুর গফুর। তিনি বহু বছর আগে ৯০ দশকেরও আগে মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধার জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। জীবনে একমাত্র ভরসা ছিলেন তাঁর ছেলে,কিন্তু সেও মানসিক ভারসাম্যহীন। এলাকায় যাকে সবাই চেনেন পাগল তজু নামে।

কখনো তজু পায়েটানা ভ্যান চালিয়ে দু’টাকা রোজগার করতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এখন আর কাজ করতে পারেন না। মানসিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। ফলে মা-ছেলের দু’জনেরই জীবনে নেমে এসেছে পুরোপুরি অক্ষমতা ও অসহায়তা।

ছেলের স্ত্রী ও দুই সন্তান কোনোরকমে দিন চালাচ্ছেন। মেয়ে সন্তানটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ে এবং ইতোমধ্যে ১৩ পারা কোরআন মুখস্থ করেছে। দারিদ্র্যের মাঝেও এটাই তাদের পরিবারের একমাত্র আশার আলো। কিন্তু বাস্তবতা এত তীব্র যে, তাদের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়,অন্ধ, বয়স ৯০, স্বামীহারা, পূর্ণ অসহায় অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও মোমেনা খাতুন কোনো সরকারি ভাতা পান না। নেই বয়সজনিত ভাতা, নেই বিধবা ভাতা, নেই প্রতিবন্ধী ভাতা,কোনো সরকারি সহায়তা ছুঁয়েও যায়নি তাঁর জীবনে।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে,
এমন বাস্তব অসহায় মানুষ যদি সরকারি ভাতা না পান, তাহলে সেই বরাদ্দের টাকা যায় কোথায়?

স্থানীয়দের অভিযোগ,ভাতা বিতরণে স্বজনপ্রীতি, প্রভাবশালীদের প্রভাব এবং প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে অবহেলা,এগুলোই প্রকৃত অসহায়দের বঞ্চনার মূল কারণ।

মোমেনা খাতুনের বাস্তবতা শুধু এক বৃদ্ধার নয়,এটি পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। যতদিন না প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ে এবং মানবিকতা শক্তিশালী হয়, ততদিন এমন মানুষগুলো রাস্তায়, ক্ষুধায়, অন্ধকারে বেঁচে থাকবে এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *