
█ এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা
একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা মাসুম আজিজের আজ তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে তিনটি বছর হয়ে গেল মাসুম আজিজ নেই। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান একুশে পদকপ্রাপ্ত এই খ্যাতিমান অভিনেতা।
অভিনেতা মাসুম আজিজ দীর্ঘদিন ধরে মারণব্যাধি ক্যানসার এবং হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া একটি বিরল ভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৭ সালে মাসুম আজিজের হার্টে চারটি বøক ধরা পড়ে। সে সময় অস্ত্রোপচার করিয়ে তিনি সুস্থতা লাভ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। সঙ্গে বেড়ে যায় হার্টের সমস্যাও। ভর্তি হন হাসপাতালে। কিন্তু এবার আর ফেরেননি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
মাসুম আজিজ একাধারে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি থিয়েটারে কাজের মাধ্যমে অভিনয়ে আতœপ্রকাশ করেন। প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন ১৯৮৫ সালে। পরবর্তীতে বহু দর্শকপ্রিয় নাটকে দেখা গেছে তাকে।
ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দায়ও খ্যাতি কুড়িয়েছেন মাসুম আজিজ। ২০০৬ সালে ‘ঘানি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে তিনি যুগ্মভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০২১ সালে সরকার তাকে দেয় একুশে পদক।
তাঁর জন্ম ১৯৫৩ সালের ২২ অক্টোবর হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ে। তাঁর বাবা আখতারুজ্জামান এবং মা সৈয়দা আজিজা সুলতানা। তাঁদের আদি নিবাস পাবনা। অভিনয়শিল্পী পরিচয় ছাড়াও মাসুম আজিজ চিত্রনাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা হিসেবে পরিচিত। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের খ্যাতি রয়েছে তাঁর। ১৯৮৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘তিন গ্যাদা’সহ অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে রাইসুল ইসলাম আসাদের সঙ্গে যুগ্মভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মাসুম আজিজ। ‘গহীনে শব্দ’, ‘এই তো প্রেম’, ‘গাড়িওয়ালা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সনাতন গল্প’ পরিচালনা করেছেন। ছবিটি ২০১৮ সালে মুক্তি পায়। ২০২২ সালে তিনি একুশে পদক পান। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনার ফরিদপুরে দোয়া মাহফিল ও কোরআনখানীসহ নানা কর্মসুচি নেওয়া হয়েছে।
