
ডেস্ক রিপোর্ট
দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ আর মহোৎসব। এ আনন্দের অন্যতম উপকরণ ঢাক, ঢোল, তবলা ও খোলসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র। তাই পূজার আগে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জের বাদ্যযন্ত্র কারিগররা। তবে প্লাস্টিকের বাদ্যযন্ত্র ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের কারণে হারাতে বসেছে এ শিল্পের জৌলুস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঠুক-ঠাক শব্দে শক্ত কাঠ থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরি করছেন কারিগররা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব বাদ্যযন্ত্র যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাপ-দাদার এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।
কারিগর রিপন জানান, ‘একসময় বাদ্যযন্ত্রের জৌলুস ছিল, এখন আর নেই। আধুনিক যন্ত্রের কারণে চাহিদা কমে গেছে। এখন শুধু ঢাক, ঢোল, তবলার কিছু অর্ডার পাই। তবে সেগুলোও মৌসুমি। পূজার আগে কাজ থাকে, পরে আস্তে আস্তে কমে যায়। ছয় মাস কাজ হয়, ছয় মাস বসে থাকতে হয়।’
আরেক কারিগর নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘এই কাজে এখন আর কেউ আসতে চায় না। কাজটি খুব কষ্টের, আর দামও খুব কম পাওয়া যায়। পূজার আগে কিছুটা কাজ থাকে, বাকিটা সময় টিকে থাকা কঠিন।’
কারিগর স্বপন কুমার বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতেই আমরা চেষ্টা করছি। তবে শুধু আমাদের চেষ্টায় হবে না। সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।’
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জয় কুমার সরকার বলেন, ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এ কাজে টিকিয়ে রাখতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের সন্তানদের শিক্ষার কাজে যুক্ত করা এবং আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানিকগঞ্জে দুই যুগ আগে সহস্রাধিক পরিবার বাদ্যযন্ত্র তৈরির সাথে জড়িত ছিল। এখন তা অনেক কমেছে। বর্তমানে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া, রাথুরা ও শিমুলিয়াসহ প্রায় ৫টি গ্রামের ৫০০-এর বেশি পরিবার এ কাজে যুক্ত রয়েছে।’
প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য ব্যবহার বন্ধের ওপর এই জোর দেয়া হয়।দোকানির তাঁক হয়ে, ক্রেতার হাত ধরে তার বাড়ি। প্রয়োজন প্রায় শেষ। এবার এক গুচ্ছ ময়লা নিজের ভেতরে নিয়ে তার জায়গা ভাঁগাড়ে। কারো কারো ভাগ্যে সেটাও জোটে না। জায়গা হয় শহরের নালায়-নর্দমায় বা শহরের পথে প্রান্তরে। পরবর্তীতে একটু বৃষ্টিতেই পানি প্রবাহের সব পথ আটকে রাখা এসব পলিথিনে তলিয়ে যায় শহর।
