
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা সদর উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে পরদিনই প্রতিশোধমূলকভাবে একটি নিরীহ পরিবারের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, খোয়া গেছে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ গৃহস্থালির সবকিছু। নিঃস্ব হয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন শনিবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে জাফরাবাদ গ্রামের চিহ্নিত চোর রাসেল এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে। এ সময় সে আত্মরক্ষার্থে ধারালো হাসুয়া দিয়ে তানজিল নামের এক যুবকের হাতে কোপ দিলে তাঁর আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই রাসেলের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার জেরে ১৫ জুন রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে নিহত রাসেলের আত্মীয়-স্বজনদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হোসেন মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায়। নিহত রাসেলের পিতা মো. নজিরের হুকুমে অপর আসামিরা বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা পাঁচ লক্ষ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি বয়লার খামার থেকে ৫০০ পিস মুরগি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ক্ষতিগ্রস্ত মরজিনা খাতুন (৩৫) জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তাঁর পরিবার প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। অগ্নিকাণ্ডে তাঁর ও তাঁর চাচা শ্বশুরের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দীর্ঘ ২২ বছরের সংসার জীবনের সবকিছুই মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ১৮ জুন বাদী মরজিনা খাতুন পাবনার আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল সালাম জানান, অগ্নিসংযোগের বিষয়ে অবগত আছি কিন্তু এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নইলে এমন ঘটনা আরও ঘটবে।
