লালমনিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি শেলী খাতুনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শেলী খাতুন লালমনিরহাট শহরের আলোরূপা এলাকার বাসিন্দা।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলার স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে জানানো হয়েছে, শেলী খাতুন দলীয় পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিল করেছেন, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আঞ্জুমান আরা শাপলা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির জেরে মারধরের ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শেলী খাতুন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কার্ডপ্রতি ১০ হাজার টাকা দাবি করতেন। অন্তত চারজনের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট রাতে ভুক্তভোগী নারীরা শেলী খাতুনকে ডেকে পাঠালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। টাকা না দিলে কার্ড দেওয়া হবে না—এমন মন্তব্যের পর স্থানীয় নারীরা তাকে মারধর করেন। ভুক্তভোগী দিনমজুর আলেয়া বেওয়া (৫৫) জানান, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়ার পর ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল, যা দিতে না পারায় কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন শেলী খাতুন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেলী খাতুন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেওয়া (৫৫) বলেন, তিনি দিনমজুরি করে সংসার চালান।




আপনার কমেন্ট লিখুন