
রাজনীতি শুধু ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবারও একটি বড় মাধ্যম—এ বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গড়ে তুলেছেন একজন মানবিক জনপ্রতিনিধির স্বতন্ত্র পরিচয়।
স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, বরং বিপদে-আপদে প্রথম ভরসার নাম। চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি কিংবা উন্নয়ন—জীবনের নানা সংকট নিয়ে প্রতিদিনই মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসে। অনেকের ভাষায়, “শিমুল বিশ্বাসের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় খোলা।”
বর্তমানে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে পাবনায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ চিকিৎসার ব্যয় বহনের জন্য সহযোগিতা চান, কেউ মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, কেউ চাকরির সুপারিশ, আবার কেউ পারিবারিক বিরোধ বা তালাক-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার খরচ, বই কেনা কিংবা ভর্তি-সংক্রান্ত সহায়তা চান। কেউ আসেন ঘর নির্মাণ বা ভাঙাচোরা ঘরের টিনের জন্য আবেদন নিয়ে, আবার কেউ রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে একে একে সবার কথা শোনেন। প্রতিবারই তিন থেকে চার শতাধিক মানুষের আবেদন গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি সমাধানের উদ্যোগ নেন। উপস্থিত মানুষের মতে, ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মধ্যেও সাধারণ মানুষের কথা শোনার এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
প্রতিদিনের ব্যস্ত কর্মসূচির শুরুতেই তিনি নিজ বাসভবনে টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আবেদন ও সমস্যার কথা শোনেন। এরপর দিনের বাকি সময় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, সরকারি-বেসরকারি সভা-সেমিনার, জনসভা, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রেখে নিয়মিত গণশুনানির এই ধারাবাহিকতাকে স্থানীয়রা তাঁর জনবান্ধব নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবি ট্রাস্ট (AB Trust)। ট্রাস্টটি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন, দরিদ্র পরিবারের খাদ্য সহায়তা, পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে খাদ্য ও উপহারসামগ্রী বিতরণ, নগদ অর্থ প্রদান, গরু ও ছাগল বিতরণ, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের জরুরি সহায়তায় ট্রাস্টের ভূমিকা স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
শিক্ষা খাতেও এবি ট্রাস্টের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণ, বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান, উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা এবং শত শত এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কম্পিউটার শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন কারিগরি ও টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে এবি ট্রাস্ট। স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের প্রায় সব অংশই তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পদের চেয়ে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি জনসেবাকে নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সমন্বয় কমিটি এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের পেশাগত সংকট, ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং শ্রমিক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী কাজ করছেন। শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা শ্রমিক মহলেও প্রশংসিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন ও জনসেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।
সচেতন মহলের মতে, জনবান্ধব নেতৃত্ব, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের জন্য নিরলস কাজ করার মানসিকতা একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই বিবেচনায় অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড পাবনার মানুষের কাছে বিশেষভাবে আলোচিত। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
