তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ (Makkah Joint Deterrence Agreement) কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই সমঝোতাকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আঙ্কারা এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে চায়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই জোটকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাতার রূপ দেওয়া হবে।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তির প্রধান দিকগুলো হলো: প্রথমত, যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি, যেখানে জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। দ্বিতীয়ত, পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে কী ধরনের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে, তা তাৎক্ষণিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি বিদ্যমান কৌশলগত জোটের বিকল্প নয়। ন্যাটোর সক্রিয় সদস্য তুরস্ক এবং সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, কোনো দেশ আক্রান্ত না হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই জোটের হুমকি হিসেবে ধরা হবে না।
চুক্তির পরবর্তী ধাপে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামনে কিছু আইনি ও কূটনৈতিক বাধা রয়েছে। কায়রো এমন কোনো কঠোর সামরিক বাধ্যবাধকতায় যেতে চাইবে না যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক বা সামরিক সহায়তা সংকটে ফেলে। এছাড়া লিবিয়া বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অবস্থানের মতো বিষয়ে সরাসরি সেনা পাঠানোর বাধ্যবাধকতা এড়াতে কায়রো সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ন্যাটোর মতো কঠোর কোনো একীভূত কমান্ড হবে, নাকি ‘ইচ্ছুক দেশগুলোর’ (Coalition of the Willing) একটি নমনীয় কিন্তু কার্যকর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে মিসর, কাতার ও কুয়েতের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ওপর। তবে এটি যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট। (তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি)










আপনার কমেন্ট লিখুন