ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে হয়রানি

আটঘরিয়া প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ৬০ গাছা গ্রামে প্রবাস সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৈধ ভিসায় কম্বোডিয়া পাঠানোর পর দেশে ফিরে এসে অবৈধভাবে অর্থ দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মোঃ রিপন মিয়া (৩০) ও মোঃ রুবেল হোসেন (৩২)-এর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোছাঃ মাসুদা খাতুন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোঃ টিপু মন্ডল পূর্বে কম্বোডিয়ায় কর্মরত অবস্থায় নিয়মিত কাজ করে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বেতন উপার্জন করতেন। তার কর্মস্থলের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অভিযুক্তসহ কয়েকজন বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে টিপু মন্ডল তাদেরকে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। জামাল উদ্দিন বৈধ ভিসায় অভিযুক্তদের কম্বোডিয়ায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রিপন ও রুবেল নিয়মিত কাজে যুক্ত না হয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তারা টিপু মন্ডল জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার নিকট অর্থ ফেরত দাবি করতে থাকেন।

এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে টিপু মন্ডল সে সময় প্রবাসে থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ০৫/০২/২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।
পরিবারের দাবি, টিপু মন্ডল বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল। এমন অবস্থায় তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া ১৬/০২/২০২৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়িতে গিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করেন। অর্থ প্রদান না করলে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি জামিনে মুক্তি পেলেও পুনরায় জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে কম্বোডিয়া প্রবাসী রুহুল আমিন খোকন গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্তরা বৈধ ভিসায় একই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত কাজ করলে সেখানে ভালো আয় সম্ভব এবং তিনি নিজে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেশে পাঠান। তবে অভিযুক্তরা নিয়মিত কাজে যুক্ত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
একই গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মাসিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন এবং নিয়মিত কাজের মাধ্যমে পরিবারসহ ভালো আছেন। অপর প্রবাসী আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশে উপার্জন সম্পূর্ণরূপে কাজের উপর নির্ভরশীল। তার দাবি, তারা মাসে ২৫-২৬ দিন কাজ করলেও অভিযুক্তরা সীমিত সময় কাজ করতেন।
বর্তমানে টিপু মন্ডলের পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
