
মো: মনিরুজ্জামান:
জাতিসংঘের প্রধান পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (UNEP) এর বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—পরবর্তী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ১০ থেকে ১৫ বছর কমে যেতে পারে। ফলে দেশের গড় আয়ু নেমে আসতে পারে ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকির মূল কারণগুলো একাধিক এবং প্রায় সবগুলোই বাংলাদেশে প্রচণ্ডভাবে দৃশ্যমান। প্রধান কারণগুলো হলো:
১. বায়ু দূষণ – রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দূষিত বায়ু শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগ বাড়াচ্ছে।
২. পানি দূষণ – শিল্প বর্জ্য ও দূষিত পানি গ্রামীণ ও শহুরে জনগোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে হুমকি।
৩. খাদ্যে ভেজাল – বাজারে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভেজাল মিশ্রিত খাদ্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
৪. আবহাওয়ার পরিবর্তন – অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোগবালাইয়ের বিস্তার বাড়াচ্ছে।
৫. পরিবেশের অবনতি – বৃক্ষ নিধন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
৬. চিকিৎসা সেবার অনুন্নতি – স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য সেবার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
৭. স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব – গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তুলনামূলক কম।
৮. মাদকাসক্তি – যুব সমাজের একটি অংশ মারাত্মক আসক্তিতে ডুবে যাচ্ছে।
৯. অপুষ্টি – দারিদ্র্য ও খাদ্যে গড় মানের ঘাটতি অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
১০. মানসিক চাপ – বেকারত্ব, ঋণের বোঝা, শিক্ষার চাপ ও সামাজিক অস্থিরতা মানসিক স্বাস্থ্যে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সব কারণ যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ চাপে পড়বে এবং মানুষের আয়ু হ্রাসের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য গবেষকরা সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।
বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েক দশক পর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
