
মো: মনিরুজ্জামান :
তিন বছর আগে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হেযবুত তওহীদের সদস্য সুজন মণ্ডলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পাবনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ।
২৪ আগস্ট (রবিবার) বিকাল ৪টায় সংগঠনটির পাবনা জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের পাবনা জেলা সভাপতি মো. মাহতাব উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহতাব উদ্দিন বলেন, “সুজন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হলেও এখনও পর্যন্ত মামলার চার্জ গঠন হয়নি। অথচ এই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হলেও প্রধান আসামি মো. আলাল শেখ ছাড়া বাকিরা সবাই জামিনে মুক্ত রয়েছে। জামিনে থাকা আসামিরা মামলার বাদী, সাক্ষী এবং আমাদের কর্মীদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ও নতুন করে হামলা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুরে হেযবুত তওহীদের একটি কার্যালয়ে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন সুজন মণ্ডলসহ ১০ জনেরও বেশি কর্মী। পরদিন ২৪ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুজন।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন মন্ডলের স্ত্রী শাহানা খাতুন সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এই সন্তান জন্মের পর তার বাবাকে দেখেনি, সে শুধু তার বাবার কাছে যেতে চায়। এই কষ্ট আমি কিভাবে সহ্য করব। এসময় তিনি হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন।
এদিকে হামলায় মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম নামে অপর এক সদস্য এখনো মস্তিষ্কজনিত জটিলতায় ভুগছেন এবং তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘসূত্রতাজনিত বিচার প্রক্রিয়া এবং আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার প্রমাণ। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কিত কর্মীরা মানবিক সহায়তা ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
