কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরসূচি রয়েছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আনিছুর রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র এক মিনিটের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। আনিছুরের ভাষ্য, তিনি কোনো করুণা বা ভিক্ষা চান না, বরং নিজের যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার একটি সুযোগ চান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের কষ্টের কথাগুলো তুলে ধরে একটি ছোটখাটো চাকরির প্রত্যাশা করছেন তিনি, যাতে দুই ভাই-বোন স্বাবলম্বী হতে পারেন।
আনিছুর ও তার বোন আমেনা আক্তারের জীবনসংগ্রাম শুরু হয় শৈশবেই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আনিছুর এবং সাত বছর বয়সে আমেনা মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাঁটাচলার সক্ষমতা হারান। তাদের বাবা ছিদ্দিক হোসাইন হাটে-বাজারে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। মা সন্তানদের কোলে বা কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন আনিছুর।
মাস্টার্স পাসের পর থেকেই শুরু হয় চাকরির জন্য কঠিন লড়াই। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি পদে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। চাকরির আবেদন ফি জোগাড় করতে পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করতে হয়েছে। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর স্ট্রোক করে মা মারা যান। মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ছেলে চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নেবে। আজ মা নেই, কিন্তু মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আনিছুর মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে আনিছুরের বাবা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আনিছুর কম্পিউটারে টুকটাক কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। তার বোন আমেনাও ডিগ্রি পাস করেছেন, কিন্তু আর্থিক সংকটে তার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। প্রতিবন্ধকতার কারণে আমেনার বিয়েসহ নানা সামাজিক জটিলতাও তৈরি হয়েছে। তারা দান নয়, নিজের যোগ্যতায় পরিবারের বোঝা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে চান।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি আনিছুরের পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত আছেন। আনিছুরের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং এটি পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ১৬ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে আনিছুরের একটাই প্রত্যাশা, মাত্র এক মিনিটের সাক্ষাৎ হয়তো তার ও তার বোনের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচিতে মাত্র এক মিনিটের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে তার আকুতি, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি ভিক্ষা চাই না, করুণা চাই না।
সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চাকরির আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
আনিছুর বলেন, ‘আমার মা চাইতেন আমি চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নেব।
শুধু এক মিনিট আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।
আমাদের কষ্টের কথাগুলো আপনাকে বলতে চাই।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের আনিছুর রহমান ও তার বোন আমেনা আক্তারের জীবনে স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায় শৈশবেই।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি।
এরপর শুরু হয় চাকরির জন্য দীর্ঘ লড়াই।
কিন্তু কোনো জায়গাতেই স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি।
ছেলে চাকরি করবে, মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে এই স্বপ্ন নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে যান তিনি।
সেই আশায় তিনি কত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।



আপনার কমেন্ট লিখুন