
মোঃ সিয়াম,
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে ফুটপাথে কম্বলে জড়ানো এক পথশিশুর ঘুমন্ত দেহ। ব্যস্ত নগরীতে অসহায় জীবনের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রাত গভীর, চারপাশে বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা, যাত্রীদের অবিরাম যাতায়াত, কিন্তু ফুটপাথই ছিল এই শিশুর একমাত্র আশ্রয়স্থল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়—এয়ারপোর্ট, গুলিস্তান, ফার্মগেট, রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজার, কমলাপুর,এমন দৃশ্য প্রতিদিনের মতোই দেখা যায়। দিনের আলোয় তারা কেউ পরিশ্রম করে, কেউ ভিক্ষা করে, আবার কেউ ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে জীবিকা জয় করার চেষ্টা চালায়। আর রাত নামলেই ফুটপাথই হয়ে ওঠে তাদের ঘর।
রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা—সবকিছুর মাঝেও হাজারো পথশিশু এখনো অনিদ্র রাত কাটাচ্ছে ফুটপাতের ঠাণ্ডা বালিতে। তাদের জন্য নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই খাবারের নিশ্চয়তা, নেই চিকিৎসা বা শিক্ষা,অন্যদিকে মানবপাচার, সহিংসতা ও মাদক ঝুঁকি প্রতিনিয়ত ঘিরে ধরে থাকে তাদের জীবনকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার ভেঙে যাওয়া, দারিদ্র্য, নির্যাতন ও সামাজিক অনিরাপত্তা—এসব কারণেই রাজধানীতে পথশিশুর সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি সংস্থার আগ্রহ থাকলেও সব শিশুদের নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন থেকে যায়,এই শিশুদের প্রকৃত দায়িত্ব নেবে কে?
সরকার, সমাজ, পরিবার,নাকি কেউই নয়?
বিমানবন্দরের মতো দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় যখন পথশিশুর রাত কাটানোর দৃশ্য দেখা যায়, তখন এর চেয়ে বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন আর হয় না।
ঢাকার উন্নত আলো ঝলমলে শহরের আড়ালে থাকা এই অন্ধকার বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়,দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আজও ফুটপাথের অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল।
এই ঘুমিয়ে থাকা পথশিশুটি শুধু একটি ছবি নয়,এটি আমাদের মানবিকতা, নীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সামনে একটি নীরব প্রশ্ন।
তাদের আগামী দিনের ঠিকানা কোথায়?”
