~
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপির সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এস এম আদনান উদ্দিনসহ কিছু সন্ত্রাসী। গত বছরের ৫ আগস্টের আগেও যারা আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে চালাত চাঁদাবাজি ও নির্যাতন। এখনো কিছু অসৎ বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় পুনরায় শুরু করেছে তৎপরতা। চাঁদা না দিলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি। তাতেও কাজ না হলে ভাঙচুর করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিস্ঠান, দোকান ও বাসাবাড়ি। এমনকি বাদ যাচ্ছে না স্থানীয় পত্রিকা অফিসও। অবাক করার বিষয় হচ্ছে—সবকিছু জানার পরও প্রশাসন রয়েছে নীরব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হুমকি ও চাঁদার হাত থেকে বাদ যাচ্চে না জুলাই আগস্ট এর আন্দোলনকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও।
হিন্দু ধর্মের সিমা রানী নামের এক ভুক্তভোগী জানান, বিএনপির সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এব ভুয়া পত্রিকা দৈনিক পাবনার চেতনা নির্বাহী সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন সাংবাদিক আমাদের পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে সে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়, বলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। না দিতে পারলে আমার প্রতিবেশিকে দিয়ে আমার নামে মামলা করাবে বলে হুমকি দেয়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাবো। আমার এখন আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নাই।
ভুক্তভোগী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা সিরাজুম মনিরা জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। আদনান আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, আদনানের কাছে আমার কিছু গোপন তথ্য, ভিডিও , ছবি আছে। আদনানকে চাঁদার টাকা না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয় পরে আমি তার দাবি কৃত টাকা দিতে অস্বীকার হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে পরে আমি পাবনা সদর থানায় চাঁদা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, আদনানকে চাঁদা না দেওয়ায় একাধিকবার আমার দোকানে হামলা হয়েছে। এখন আমরা চুপ থাকাই ভালো মনে করছি।
ড্রিম প্যালেস হোটেলের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান জানান, সাংবাদিক আদনানকে চাঁদার টাকা না দেওয়াই আমাদের হোটেলটি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি
সাধন করে এসব দুষ্কৃতিকারীরা। এখনো চাঁদার জন্য প্রতিনিয়তই হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন চাঁদাবাজ আদনান। তাছাড়াও মিথ্যা আজেবাজে নিউজ করার হুমকি দেয় এ বিষয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন আইনি সহযোগিতা পাইনি আমরা।
খবর বাংলার সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন পুলিশ/সাংবাদিক সবাই মনে হয় একটা ভয়ের মধ্যে থাকে আদনানকে নিয়ে, যে কখন আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়ে সবার সন্মানহানি করে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত এস এম আদনান উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জনানা, চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিষয়ে এস এম আদনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
