বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার ৫টি উপজেলায় প্রায় এক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে অনিয়মিতভাবে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চোটমোহর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া পৌর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, ব্যাংক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানেও উল্লেখযোগ্য হারে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আলাদা ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সেখানেও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষ করে শিশু ও বাড়িতে থাকা অসুস্থ বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিদ্যুৎ নির্ভর হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
চাটমোহরের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং এই দুইয়ে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। হিট স্ট্রোকে অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিমের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।”
চাটমোহর পৌর এলাকার ইলেকট্রনিক মেকানিক ময়লাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে কোনো কাজ করা যায় না। প্রতিদিন কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে, অথচ কাজ হচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হচ্ছে।”
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের রোগী বেড়েছে। তিনি সবাইকে বেশি করে পানি পান করার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, “কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। শুধু আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকেই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না, সারা দেশেই একই সমস্যা চলছে। আমাদের এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের অসন্তোষ কমাতে প্রতিদিন কোন এলাকায় কত সময় লোডশেডিং হবে, তা ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের এই লোডশেডিংয়ে এই ৫টি উপজেলায় স্বাভাবিক জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি-খামার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ গড়ে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
প্রকাশিত: 13 August 2026, 1:20:31 AM
আরও খবর
পাবনায় করতোয়ার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে বক্তারা : ‘করতোয়া গণমানুষের আস্থার পত্রিকায় পরিণত হয়েছে’
জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া কর্মকর্তাদের দায়িত্ব: জেলা প্রশাসক
আবারো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা
নৌযান শুমারি-২০২৬ এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
পাবনার শিবপুরে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে গুলি, ১ জন আহত, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার
ভাঁড়ারার চেয়ারম্যান সুলতানের অপসারণের দাবিতে জুলাই যোদ্ধাদের স্মারকলিপি
চাচার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ, ভাতিজি সোহাগীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন পাবনার বেড়ায়

আপনার কমেন্ট লিখুন